গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ-র‍্যাগিং: স্থায়ী বহিষ্কার ৫

গবি সংবাদদাতা

শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:৩৪ পিএম


গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ-র‍্যাগিং: স্থায়ী বহিষ্কার ৫
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ-র‍্যাগিং: স্থায়ী বহিষ্কার ৫।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতের অভিযোগে চার শিক্ষার্থী ও র‍্যাগিংয়ে জড়িতের অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় আরও পাঁচজনকে এক সেমিস্টার (ছয় মাস) করে বহিষ্কার ও  ১২ শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ওহিদুল্লাহ।

ধর্ষণের ঘটনায় স্থায়ী বহিষ্কৃত চারজন হলেন- আইন বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দেলোয়ার ভূঁইয়া, তাজুল ইসলাম তাজ, শ্রাবণ সাহা ও ২৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অন্তু দেওয়ান।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় স্থায়ী বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন- আইন বিভাগের ২৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অন্তু দেওয়ান ও তরিকুল ইসলাম।

এক সেমিস্টার (ছয় মাস) করে বহিষ্কৃত পাঁচজন হলেন- আইন বিভাগের ৩২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম, নাইম, মেহেদী হাসান, ৩২ তম ব্যাচের সাজ্জাদ বাবর ও ২৮ তম ব্যাচের মেহেদী হাসান।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাগিংয়ের সময় উপস্থিত থাকায় ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে ১২ জনকে। তারা হলেন- আসিফ রহমান লাবিব, লতিফুল হক লোবান, সামিউল ইসলাম, আলিমুল ইসলাম নাহিদ, মোহাম্মদ ওয়ালিদ প্রধান, আসাদুর, শ্রাবণ সাহা, দেলোয়ার ভূঁইয়া, ইমামুল মোরসালিন, কাজল, খন্দকার জিহাদ হাসান ও আইয়াজ হক।

এর আগে, গত ২৪ নভেম্বর মধ্যরাতে আশুলিয়ার নলাম এলাকার একটি মেসবাসায় ডেকে নিয়ে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শের আলীকে (৩৩ ব্যাচ) র‌্যাগিং এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এর জেরে ২৬ নভেম্বর আটজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। 

এ ছাড়া গত ২ ডিসেম্বর রাতে আশুলিয়া থানায় গণ ধর্ষনের অভিযোগে একটি মামলা করেন এক নারী শিক্ষার্থী। ওই ঘটনায় জড়িত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চার শিক্ষার্থীকে রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

এসব ঘটনার জেরে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ধর্ষণের বিষয়টি সামনে আসার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সকালেই ধর্ষণে জড়িত চারজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এরপরও বিক্ষোভ চালিয়ে যান তারা। একপর্যায়ে ধর্ষণে অভিযুক্তদের পক্ষে ভূমিকা রাখায় আইন বিভাগের শিক্ষক লিমন হোসেনকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও আইন বিভাগের সভাপতি রফিকুল আলম, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা ও লিমন হোসেনসহ তিন শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

একপর্যায়ে দুপুর ২টার দিকে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) নেতৃবৃন্দ, গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) নেতৃবৃন্দসহ জরুরি সভা করা হয়। দীর্ঘ বৈঠক শেষে রাত ৮টার দিকে অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ঘোষণা করা হয়।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ওহিদুল্লাহ বলেন, অভিযোগ ও তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। 

আরটিভি/এস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission